কেবিন ক্রু নাবিলার শিশুকন্যা হিয়ার দায়িত্ব কে নেবে?

নিহত নাবিলার শিশুসন্তান হিয়া

‘মাদকাসক্ত বাবা জেলে। মা শব্দটি ছাড়া এখন আর কোনো কথাই ভালোভাবে বলতে পারে না। সারা দিনই মায়ের জন্য কান্না করে। ওর এখন অন্ধকার ভবিষ্যত। ওর দায়িত্ব কে নেবে?’ -কথাগুলো বলছিলেন নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা বিমানের কেবিন ক্রু নিহত শারমিন আক্তার নাবিলার মা নীলা জামান।

নাবিলাকে হারিয়ে পুরো পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। আর নাবিলার একমাত্র মেয়ে ইয়ানা ঈমাম হিয়া অপহরণের পর উদ্ধার হয়ে এখন স্বজনদের কাছে। ওর কান্না যেন এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয় না।মায়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা তাকে কেউ বলতেও পারছে না।খবর-যুগান্তর।

এর আগে বিমান দুর্ঘটনার দিন কেবিন ক্রু নাবিলার মেয়ের হিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায় কাজের বুয়া। পরে স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হিয়াকে মিরপুর থেকে উদ্ধার করে। হিয়া এখন তার নানী নীলার কাছে রয়েছে।

নীলা জামান বলেন, হিয়া হারিয়ে যাওয়ার পরে আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম।এখন হিরা ফিরে আসাতে আমরা কিছুটা শান্তি পেয়েছি।কিন্তু হিয়া বারবার মায়ের (নাবিলা)কথা জিজ্ঞাসা করছে আর কান্না করছে। আমরা ওকে সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর থেকে মায়ের জন্য কান্না করছে ওই কোমলমতি শিশু।মায়ের জন্য হিরার কান্না যেন থামছেই না। ওর ব্যথা ভরা চোখ দুটি খুঁজে ফিরছে মাকে।

সাংবাদিকসহ উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে হিয়ার নানি বলেন, যা হারিয়েছি, তা আর কোনোদিন ফিরে পাবো না। চিরদিনের জন্য সন্তানকে হারিয়ে ফেললাম। কিন্তু হিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে আমরা এখন চিন্তিত। ওর দায়িত্ব নেয়ার মতো কেউ নেই। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন।

গত সোমবার ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার একটি বিমান কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানের থাকা ৭৮ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যুর হয়েছে।সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭৮ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বিমানটি।

মতামত দিন