ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে বিএনপি, মাঠে আ’লীগ

dncc news

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। তাদের দাবি, সরকার ডিএনসিসিতে নির্বাচন দেবে না। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীকে জনসংযোগের নির্দেশও দিয়েছে।

ডিএনসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে চলছে হিসেব-নিকেশ। যদিও কোনো দলই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে অনেকাংশে প্রকাশ হয়ে গেছে কারা হচ্ছেন দু’দলের প্রার্থী।

অবশ্য দু’দলের নেতারাই আনুষ্ঠানিকভাবে বলছেন, আগে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হোক। তারপর প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে জনসংযোগের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাবিথ আউয়ালই বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

গত সোমবার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জনসংযোগ করার জন্য নির্দেশ পেয়েছি। ইতিমধ্যে জনসংযোগ শুরুও করেছি।’

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো বলেননি প্রার্থী বদল করবেন। যেহেতু গত নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, এবারও তাবিথ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।’

ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপি নেতারা সংশয় প্রকাশ করছেন নির্বাচন নিয়ে। তাদের মতে, সরকার ডিএনসিসি নির্বাচন দেবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আসলে কি সরকার নির্বাচন দেবে? আগে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হোক তারপর দেখা যাবে।’

এখনও তাবিথ আউয়ালের বিকল্প ভাবা হয়নি বলেও জানান বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা।

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখনো এটা নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি। সময় আসুক তারপর কথা বলা যাবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, ‘নির্বাচনের শিডিউল আগে ঘোষণা হোক তার পর প্রার্থী নিয়ে কথা বলা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে শুধু মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঠিক করতে হবে। একজনই প্রার্থী এটা ঠিক করা জটিল কোনো কাজ নয়। কারণ গত নির্বাচনে যারা কাজ করেছেন, থানা ওয়ার্ডে সেই কমিটিতো আছে।’

তবে বিএনপিতে সংশয় থাকলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে অনেকে ধরেই নিয়েছেন তাকেই প্রার্থী দেয়া হচ্ছে।

অবশ্য আতিকুল নিজেও সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ পেয়ে জনসংযোগে নেমে গেছেন বলে দাবি করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি ইতিমধ্যে ব্যানার দিয়ে ভরে ফেলেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী দল। যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং আওয়ামী লীগ এতে অংশ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তরে প্রচুর কাজ করেছি। আশা করি, বাকি কাজগুলো করতে জনগণ আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেবে।’

কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী- এমন প্রশ্নে ফারুক খান বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা হলে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিডিউল ঘোষণা হলে সাংগঠনিক পদ্ধতিতে মনোনয়ন ফরম দেয়া হবে। আগ্রহীদের মধ্য থেকে বাছাই করে মনোনয়ন দেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক মারা যান। তার মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। শিগগিরই শূন্য পদে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, যেহেতু ডিএনসিসি উপ-নির্বাচন করতে কোনো জটিলতা নেই। তাই কমিশন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল এবং ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মেয়র পদে উপ-নির্বাচন, উত্তর সিটিতে সংযুক্ত নতুন ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ৬ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির সঙ্গে সংযুক্ত ১৮টি কাউন্সিলর ও ৬টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের জন্য তিনটি আলাদা আলাদা তফসিল ঘোষণা করা হবে।

মতামত দিন