কলেজ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ, আটক ৩

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় পালিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কলেজছাত্রী (১৭)। এ ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

তারা হলেন মাসুদ রানা (২৪), হৃদয় হাসান সুমন (১৮) ও তারাপদ (২০)।

ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং তার বাড়ি মোগলবাসা ইউনিয়নের নিধিরাম গ্রামে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দাশেরহাট বাজারের পাশে একটি পরিত্যক্ত পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রওশন কবির জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের বাঞ্ছারাম গ্রামের অটোচালক রহমান আলীর ছেলে কামরুল ইসলামের (২২) সঙ্গে প্রেম ছিল নির্যাতিতা ছাত্রীর। সম্প্রতি তারা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রেমিক কামরুলের কথামতো গতকাল বুধবার বিকেলে কলেজ শেষে তাঁত মেলায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে কলেজছাত্রী। পরে কামরুল তাকে ওই পেট্রোল পাম্পে থাকতে বলে। সেখানে অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় রাত সোয়া আটটার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয় যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তাকে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা মাঠে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর ওই ছয় যুবক মোবাইল ফোনে তাদের আরও কজন বন্ধু স্বপন, পলাশ, মুকুল ও লাইজুকে ডেকে আনে। একপর্যায়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রাত দুইটার দিকে জ্ঞান ফিরলে মেয়েটি রাস্তার পাশে আসে। এসময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, মেয়েটিকে গুরুত্বের সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পেয়েছে।

মতামত দিন