বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহরিনের অবস্থা স্থিতিশীল

আহত শাহরিনকে ঢামেকে নেয়া হচ্ছে।

নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহরিন আহমেদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন।

বৃহস্পতিবার ঢামেক হাসপাতালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. সামন্ত লাল সেন বলেন, আহত শাহরিন আহমেদকে নেপাল থেকে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে। শাহরিনের পায়ে একটা ফ্র্যাকচার আছে। শরীরে বার্ন হয়েছে পাঁচ শতাংশ। তাকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

শাহরিনের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওকে (শাহরিনকে) হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর কিছু পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্ট হাতে আসার পর জানা যাবে যে, তার কোনও অপারেশন লাগবে কিনা। তার অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো। ক্যাজুয়ালিটি যা হওয়ার হয়েছে, এখন যে অবস্থায় আছে সেখান থেকে আমরা তাকে সারিয়ে তুলতে পারব ।’

ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক আরও বলেন, যেদিন ঘটনা ঘটেছে, সেদিনই প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু নেপাল গ্রিন সিগন্যাল দেয়ার পরে আজ সেই টিম পাঠানো হয়েছে।

এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান বলেন, ‘আমার জীবনে বাংলাদেশের বিমান দুর্ঘটনার এমন মর্মান্তিক ঘটনা এর আগে কখনও শুনিনি। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেদনার দিক হচ্ছে, নেপাল থেকে আসা শিক্ষার্থী যারা রাগিব-রাবেয়া, শেখ সায়রা খাতুন ও কুমুদিনি মেডিকেলে এমবিবিএস পরীক্ষা দেয়া পরে বাড়ি ফিরছিলেন, তারা পরিণত ডাক্তার হয়ে বাড়ির মাটি স্পর্শ করার আগেই পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। এটা আমাদের জন্য খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার। এজন্য আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে দেশে। প্রধানমন্ত্রীও শোক জানিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০০৭২ ফ্লাইটে করে শাহরিনকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এছাড়া এ ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি আহত হয়।

মতামত দিন