দিব্যা ভারতীর বোনই তাহলে ঐ সুন্দরী ‘পুলিশ অফিসার’?

কাইনাত অরোরা

বিনোদন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক সুন্দরী পুলিশ কর্মকর্তার ছবি নিয়ে বেশ সোরগোল চলছে ভারতে। অন্ধকার জগতের রথী-মহারথী ছাড়াও পুচকে অপরাধীরা নাকি এই পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গ্রেফতার হওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠেছেন। পাঞ্জাবের এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার নাম।এই পুলিশ অফিসারের হাতের ছোয়া পেতে ইচ্ছা করেই নাকি গ্রেফতার হচ্ছেন আসামীরা।

পাঞ্জাবের এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার নাম ‘হরলীন মান’। মাঝারি উচ্চতার গৌরবর্ণ এই পুলিশ অফিসার সম্প্রতি চাকরিতে বহাল হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা চলছে।তবে পাঞ্জাবের এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা কিন্তু আসল পুলিশ নন। এই সুন্দরী পুলিশ অফিসার ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি’ ছবিতে চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন। সেই ছবিতে তার অ্যাপিয়ারেন্স সেবারও মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল দর্শকদের।

এই সুন্দরী পুলিশ কর্মকর্তার নাম কাইনাত অরোরা। ‘জগ্গা জিউনদা ই’ নামে একটি পাঞ্জাবি ছবিতে ‘হরলীন মান’ নামে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি।

কাইনাত অরোরা

অনেকেই জানেন না যে তিনি একসময়কার লাস্যময়ী বলিউড কুইন দিব্যা ভারতীর জ্ঞাতী বোন। কাইনাতের রূপ-লাবণ্যও যে দিব্যার মতোই মারকাটারি টাইপের তা বলাই বাহুল্য। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন যার মধ্যে রয়েছে খাট্টামিট্‌ঠা, ফারার ও সিক্রেট। ২০১১ সালে অভিনয় করেন মনকথা ছবিতে। একই বছর রামগোপাল ভার্মার সিক্রেটেও কাজ করেন।

তবে ইন্সটাগ্রামসহ সামাজিক মাধ্যমে পুলিশি পোশাকে এই স্মার্ট সুন্দরীর ভাইরাল হওয়া ছবি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের অনেকেই ভাবতে পারেনি যে ইনি সত্যিকারের লেডি পুলিশ অফিসার নন।

ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন জ্যাকি শ্রফ ও দলজিৎ কলসি। সম্প্রতি সেই ছবির শুটিংয়ের কয়েকটি ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে আপলোড করেছিলেন তিনি। আর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে তার ছবি।

ইউনিফর্মে নারীর এই রূপমাধ্যুর্যই বিমোহিত করেছে সবাইকে। কারণ, তারা চায় রাষ্ট্রের একজন জনসেবক কর্মচারীর বাস্তব রূপ এমনই হবে- স্বস্তিদায়ক, সুন্দর; কিন্তু কদর্য আর ভীতিকর নয়। তবে পুলিশি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য বেশভূষায়ও কাইনাতকে সুন্দর কম দেখায় না।
এর মধ্যে ছিল পুলিশি পোশাকের ছবি, যা ছড়িয়ে পড়ে হাতে হাতে। সবাই ভেবে ফেলেন- সত্যিই হরলীন নামে ওই রকম চোখ ধাঁধানো সুন্দরী পুলিশ অফিসার নিয়োগ হয়েছে পাঞ্জাবে।এতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন কাইনাতও।

দেশটির গণমাধ্যমকে কাইনাত বলেন, প্রথমবার যখন শুনেছিলাম আমার ছবি কেউ পাঞ্জাবি পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তখন বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিলাম। এর পর একের পর এক ফোন ও মেসেজ আসতে শুরু করে। প্রশংসায় ভরে গিয়েছিল মেসেজ বক্স।

এদিকে, ইন্সটাগ্রামে কাইনাত অরোরা জানিয়েছেন, পুলিশের পোশাকের ওই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মেসেজ আর পোস্টের বন্যায় ভেসে যাচ্ছি যেন… আমার ফোন মেমরি বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায়… আমি সত্যিকারের পুলিশ নই।

এর ফলে একথা আবারও প্রমাণ হলো যে ইন্টারনেট জ্ঞান ও তথ্য আহরণের বিশাল ভাণ্ডার হলেও এর দ্বারা ভুয়া সংবাদ আর গুজব ছড়ানোর ঝুঁকিও মারাত্মক। কারণ, কারও ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পোস্ট দেওয়া এমনসব তথ্যের সত্যাসত্য যাচাইয়ে সাধারণ লোকজন খুব একটা সময় খরচ বা চেষ্টা করতে চান না। ততক্ষণে অনেক অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়ে যান অনেকেই। অনেক সময় নির্দোষ ছবি বা লেখাও নির্দোষ অনেকের জন্য হয়ে ওঠে ভয়াবহ পীড়াদায়ক।

সবাই তো চাইছেন আপনার হাতেই গ্রেফতার হতে, এমন প্রশ্নে কাইনাতের উত্তর- ‘আমি আপ্লুত।

মতামত দিন