নতুন বছরে আওয়ামী লীগের চিন্তায় শুধুই নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নতুন বছরের নতুন লক্ষ্য। নতুন বছর ২০১৮ সালে এ দিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে দলটি। এ লক্ষ্যকে কেন্দ্রে রেখেই পরিচালিত হবে দলটির সব কর্মকাণ্ড। আওয়ামী লীগকে আগের চেয়ে আরও বেশি জনসম্পৃক্ত করে তুলতে কাজ করার পাশাপাশি বিএনপির ‘নেতিবাচক’ রাজনীতি, দেশ পরিচালনায় তাদের ব্যর্থতা, লুটপাট-দুর্নীতির চিত্র জনগণের মাঝে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি করে তুলে ধরতে কাজ করবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের সাফল্য, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রচারণা নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত জনগণের দুয়ারে যাবে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা নতুন বছরে তাদের এসব টার্গেটের কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘নতুন বছরে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই– তাহলো নিরঙ্কুশ বিজয়। টানা তৃতীয়বার দলকে ক্ষমতায় আসীন করতে কাজ করবেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।’

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা আরও জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি দল গোছানোর কাজও অব্যাহত রাখা হবে নতুন বছরে। বছরের শুরু থেকে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা বেরিয়ে পড়বেন সারাদেশ সফরে। এই সময়ে তারা দলের অনৈক্য দূর করা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়নের প্রতি গুরুত্ব দেবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘নতুন বছরে ‘টপ প্রায়োরিটি’ দল গোছানো। কোথায় কোথায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধান করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলকে সুসংগঠিত করে বিজয়ের লক্ষ্য অর্জন করতে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দলের টার্গেট টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা। এজন্য যা যা করণীয়, তার সবই করবেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। নতুন বছরের শুরু থেকেই বছর শেষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যকার বিভেদ ঘুচিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবেন নেতাকর্মীরা। সারাদেশে তৃণমূলে এরইমধ্যে এই নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা সফর করার মধ্য দিয়ে দলকে সংগঠিত করে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে চান দলটির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘দলকে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আনাই হলো নতুন বছরের নতুন টার্গেট। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন বছর পথ চলবে আওয়ামী লীগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ জেলা সফর শুরু করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি মোকাবেলা করাও নতুন বছরের লক্ষ্য আওয়ামী লীগের।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে দলকে প্রস্তুত করাই আমাদের নতুন বছরের নতুন টার্গেট। এজন্য দলকে আরও জনসম্পৃক্ত করা হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি জনগণের মাঝে তুলে ধরা, বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা, লুটপাট-দুর্নীতি ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড জনগনের মধ্যে তুলে ধরাই হবে আওয়ামী লীগের নতুন বছরের টার্গেট।’ সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

মতামত দিন