মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা আবু সাঈদ তিনদিনের রিমান্ডে

বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রামে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ও ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি আবু সাঈদ ওরফে কারীম ওরফে তালহা ওরফে শ্যামলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশে সিরিজ বোমা হামলার দায়ে আদালত তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে কলকাতার এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ওমর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাকে। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, বার্মিজ চাকু ও নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আজ শনিবার বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের সামনে এ কথা জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেএমবি নেতা আবু সাঈদকে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী বিচারিক হাকিম আবু রায়হানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আবু সাঈদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরচাঁদপুর গ্রামে। তার হাত ধরেই নব্য জেএমবি নেতা সোহেল মাহফুজসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

কে এই ‘সাইদ ওরফে তালহা’

# মো. আবু সাঈদ ওরফে করিম ওরফে শ্যামল শেখ কুষ্টিয়া জেলার শ্রীকোল চর চাঁদপুরের শহীদুল্লাহ শেখের ছেলে।

# ২০০২ সালে জে এমবিতে যোগ দিয়ে উত্তরাঞ্চলে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।

# ২০০৪ সালে রাজশাহী জেলার সামরিক প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

# ২০০৪ সালে রাজশাহীর বাগমারায় হামিদকৎসা গ্রামে বাংলাভাই ও শায়েখ আব্দুর রহমানের সাথে সর্বহারা নিধনে অংশ নেন।

# ২০০৫ সালে জেএমবির নওগাঁ জেলার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর ১৭ অগাস্ট সারা দেশে বোমা হামলার সময় নওগাঁয় তিনি চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

# ওই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মৃত্যুদণ্ড হলে ২০০৭ সালে সাঈদ ভারতে পালিয়ে যান।

# ২০০৯ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় জেএমবি সদস্য ইয়াদুলের মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে করে সেখানে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করেন।

# ২০১০ সালে ভারতের নদীয়া জেলার জেএমবি নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

# ২০১২ সালে নদীয়া জেলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও বর্ধমান জেলারও দায়িত্ব নেন।

# ২০১৪ সালে বর্ধমানে দায়িত্ব পালনকালে ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এরপর ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি (এনআইএ) আবু সাঈদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ ভারতীয় রুপি পুরস্কার ঘোষণা করলে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

# ২০১৫ সালের শেষের দিকে ‘নব্য জেএমবিতে’ যোগদান করে।

# সাংগঠনিক কাজে দক্ষ হওয়ায় ২০১৭ সালের প্রথম দিকে দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক প্রধান হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং শুরা সদস্যের দায়িত্ব নেন।

মতামত দিন